শুকিয়ে মরুকরণের পথে খরস্রোতা সিরামাখালী নদী

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তর্গত বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। শাখা-প্রশাখাসহ প্রায় ৮০০ নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকাই শত শত নদীর মাধ্যমে বয়ে আসা পলি মাটি জমে তৈরি হয়েছে। দেশের অসংখ্য নদীর মধ্যে একটি নদী হলো সিরামাখালী নদী।
সিরামাখালী নদী বা সিঙ্গি নদী বা এলেঙ্গা নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নওগাঁ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২৭ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক সিরামাখালী খাল নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ১০৯।
মানবসভ্যতা গড়ে ওঠেছিলো নদী তীরে।নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে নগর,বন্দর,শহর,গ্রাম, জেলেপাড়া, বাণিজ্যকেন্দ্র প্রভৃতি। এই নদীকে ঘিরেই ছিলো আদিকালের যাতাযাতের সকল ব্যবস্থা। জাহাজে, নৌকায় চড়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত মানুষ ঘুরে বেড়িয়েছে। কৃষি, মৎস্য, জেলেদের পেশা এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি মানুষের নিত্যদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ সকল কিছুর একমাত্র উৎস ছিলো নদী। নদী আজ দখল, দূষণ আর ভরাটের প্রতিযোগিতায় বিপন্ন অনেকাংশে বিলুপ্ত। বিলুপ্ত প্রায় সিরামাখালী নদী।

দখল-দূষণ ও খননের অভাবে নদ-নদীটি হারিয়ে যেতে বসেছে। বেশির ভাগ নদীই পরিণত হয়েছে মরা খালে। এ সুযোগে দখলে মেতে উঠেছে প্রভাবশালীরা। পাড়ে উঠছে ঘরবাড়ি,হচ্ছে চাষাবাদ। পাড় দখল মুক্ত করতে বা খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সকলের আকুতি। নদী ও পরিবেশ গবেষকরা মনে করেন, বৈশি^ক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের যে ভয়াবহ দুর্যোগ আনছে, তার মধ্যে নদী হত্যা এর অন্যতম কারণ। অবৈধভাবে নদী দখল, হাসপাতালের বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য, পলিমাটি,পলিথিন ব্যাগ,প্লাষ্টিক,মল মুত্রসহ সকল প্রকার আবর্জনা ফেলে নদী ভরাট ও দূষণ করা হচ্ছে। প্রকৃতি নয়, মানব সৃষ্ট দূষণের কবলে পড়ে নদী পথ বিলীন হয়েছে। নদী মরে যাওয়ায় জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। যে কারণে সময়মত বৃষ্টিপাত হয় না এবং নদীতে পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এ জেলার অনন্য প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ভৌগলিক অবস্থান সমগ্র বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল হতে এ জেলাকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। অনেক নদীর নাম আছে কিন্তু অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। কোনো কোনোটি বিলীন হওয়ার পথে। এই নদীগুলোতে একসময় বিপুল জলরাশি প্রবহমান ছিলো। স্রোতের সঙ্গে বয়ে নিয়ে আসত পলিমাটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়াও জেলার কৃষি অর্থনীতিকে সচল রাখতো।
১৭৮৩ সালে জেমস রেনেল অংকিত বাংলাদেশের মানচিত্র যে নদী-নালাগুলোর বিবরণ রয়েছে বর্তমানে সেগুলি চিহ্নিত করা কষ্টসাধ্য। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে এবং পরিত্যক্ত গতিপথ ভরাট হয়ে পুরানো নদীপথের চিহৃ মুছে গেছে। আবার একই নদীর গতিপ্রবাহ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত।

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশর ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে শত শত নদী। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নদী ও শাখা নদীর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার এর বাইরেও ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার শাখা ও উপনদী রয়েছে। সে হিসেবে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬ হাজার। নদী দখল,বাঁধ, নগরায়ন,ভরাটের কারণে দেশের নদ-নদী বিলুপ্ত। এমনি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে খরস্রোতা সিরামাখালী নদী।
নদী আমাদের অস্তিত্ত্বের অংশ। নদী আমাদের নান্দনিকতার উৎস। নদীর আত্মহনন বা হত্যা দিয়ে আমরা সভ্যতা ও সংস্কৃতির সচল ধারাকে অবলুপ্ত করতে চাই না। সভ্যতা প্রবহমান; সংস্কৃতি চলমান ধারায় পরিবর্তনের অগ্রদূত। নদী সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রধানতম ধারক ও বাহক। নদীকেন্দ্রিক জীবন প্রবাহের এ ধারাকে সজীব ও জীবন নির্ভর করতে হবে।

প্রধান নদী সাধারণত পাহাড় হতে সৃষ্ট ঝরণা, হিমবাহ থেকে সৃষ্টি হয়, যেমন পদ্মা গঙ্গোত্রী হিমবাহ হতে উৎপন্ন হয়েছে। শাখানদী অন্য কোন নদী হতে উৎপন্ন হয়। যেমন বুড়িগঙ্গা ধলেশ্বরীর শাখা নদী। উপনদী সাধারণত অন্য নদীতে গিয়ে মেশে এবং প্রবাহ দান করে, যেমন আত্রাই নদী। কোনো প্রধান নদী অন্য নদীর উপনদীও হতে পারে। আবার পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দের ভিত্তিতে এই জলস্রোতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যে সকল জলস্রোতের নাম স্ত্রীবাচক তাদের নদী বলা হয়। এদের নাম দীর্ঘস্বর কারান্ত হয়। যেমনঃ মেঘনা, যমুনা, কর্ণফুলী, কুশিয়ারা ইত্যাদি। যে সকল জলস্রোতের নাম পুরুষবাচক তাদের বলা হয় নদ। এদের নাম হ্রস্বস্বর কারান্ত হয় যেমনঃ কপোতাক্ষ, ব্রহ্মপুত্র, নীল নদ ইত্যাদি নদ। তবে এই নিয়ম সেসকল নদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য,যাদের নাম পৌরাণিক। নদীমাতৃক বাংলাদেশে অসংখ্য নদ-নদীর মধ্যে অনেকগুলো আকার এবং গুরুত্বে বিশাল। এসব নদীকে বড় নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।বৃহৎ নদী হিসেবে কয়েকটিকে উল্লেখ করা যায় এমন নদীসমূহ হচ্ছে: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলি, শীতলক্ষ্যা, গোমতী ইত্যাদি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” বাংলাদেশের নদীগুলোকে সংখ্যাবদ্ধ করেছে এবং প্রতিটি নদীর একটি পরিচিতি নম্বর দিয়েছে। এর ফলে তাদের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা এখন ৪০৫ টি। পাউবো কর্তৃক নির্ধারিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী (১০২টি), উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী (১১৫টি), উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী (৮৭টি), উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী (৬১টি),পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী (১৬টি) এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী (২৪টি) হিসেবে বিভাজন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কালক্রমে দখল আর দূষণের কবলে পড়ে বা বালু উত্তোলনের কারণে নিঃস্ব হয়ে গেছে অনেক নদী। নওগাঁ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে নওগাঁ বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। নওগাঁ জেলা ভৌগোলিকভাবে বৃহত্তর বরেন্দ্র ভূমির অংশ। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমভাগে বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংলগ্ন যে ভূখন্ডটি ১৯৮৪-র পহেলা মার্চের পূর্ব পর্যন্ত নওগাঁ মহকুমা হিসেবে গণ্য হতো, তা-ই হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের নওগাঁ জেলা। এর উত্তরে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর,দক্ষিণে বাংলাদেশের নাটোর ও রাজশাহী জেলা,পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের মালদহ ও বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। নওগাঁ জেলায় বহুসংখ্যক নদী আছে কালক্রমে কিছু নদী বিলীন হয়ে গেছে। কিছু নদী ঠিকে থাকলেও মরণ ফাদে । এমনি একটি নদী সিরামাখালী নদী।

দেশের নদী খনন অত্যন্ত জরুরি। তার কারণ আমাদের ২৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথের মধ্যে এখন মাত্র ৫ হাজার কিলোমিটার নদীপথ আছে। সরকার ইতিমধ্যে ৮০০ কিলোমিটার নদীপথ খননের কাজ হাতে নিয়েছে। এখন বড় প্রকল্পগুলো হাতে নেয়ায় নদীর নাব্যতা ফিরে পাবে এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নদীপথের বিকল্প কিছু হতে পারে না। যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীপথ অধিকতর সহজ এবং নিরাপদ। নদ-নদী মানুষ ছাড়াও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল রয়েছে নদীতে। নদী তার আপন সৌন্দর্য হারানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল বিলুপ্ত হচ্ছে। এসবকিছু প্রভাব ফেলেছে জীববৈচিত্র্যে। একের পর এক নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের জীবনধারণে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদ-নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদি নদীগুলো এভাবে তাদের অস্তিত্ব হারাতে থাকে তাহলে অচিরেই পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। নদীর নিঃস্বার্থ ভালবাসায় আমরা বেঁচে আছি এই পৃথিবীর বুকে। নদীর স্রোতধারায় সুজলা-সুফলা এই ধরণী।
বিশ^সভ্যতার চাকাও ঘুরিয়েছে এই নদী। কিন্তু এক শ্রেণীর অবিবেচক মানুষের লোভ আর কান্ডজ্ঞানহীনতায় সেই নদী আজ মরতে বসেছে। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের আরও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। নদ-নদী, খাল, বিল, জলাশয়সহ সব জলাধারকে দখলমুক্ত করে এতে পানি ধারণ না করলে দেশ অপূরণীয় ক্ষতির দিকে অগ্রসর হবে। জলবায়ু উদ্বাস্ত হবে উপকূলীয় এলাকার কোটি কোটি মানুষ। দেশ থেকে হারিয়ে যাবে নদী, বিপন্ন হবে পরিবেশ।
নওগাঁর ছয় নদ-নদী এখন পানিশূন্য ধু-ধু বালুচর। নদ-নদীর এ দশায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য, বৃক্ষরাজিসহ সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের গৃহস্থালি কাজকর্মে। এ করুণ অবস্থায় এলাকাবাসী দারুণভাবে হতাশাগ্রস্ত। জেলার এ ছয়টি নদ-নদী হলো বদলগাছী-নওগাঁ সদর-রানীনগর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা,পত্নীতলা-মহাদেবপুর-মান্দা-আত্রাই উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, সাপাহার-পোরশা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, সাপাহার-পোরশা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা, নিয়ামতপুর-মান্দা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত শিব, নওগাঁ সদর-রানীনগর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তুলসীগঙ্গা এবং রানীনগর-আত্রাই উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নাগর। পানির বদলে বালুবোঝাই এসব নদ-নদীর কোথাও কোথাও অবশ্য এক চিলতে করে পানির দেখা এখনো মেলে। ভবিষ্যতে হয়তো এটুকুও দেখা যাবে না। একসময় এ নদ-নদীগুলোয় খরা মৌসুমেই পালতোলা নৌকা চলতো, স্রোত প্রবাহিত হতো। প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। নদ-নদীর পানি দিয়েই দুই পাশের হাজার হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করা হতো। বাংলাদেশের অধিকাংশ নদ-নদীর মতো এ নদ-নদীগুলোও ভারতের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত। ফলে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় নদ-নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে পানির গতি রোধ করা হয়েছে। তাই খরার সময় নদ-নদীগুলো মরা খালে পরিণত হয়। এ কারণে নদ-নদীর বুকের অনেক জায়গায় বিভিন্ন সবজিসহ ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। তাই দেশের মধ্যে থাকা এসব নদ-নদীসহ সিরামাখালী নদীকে বাঁচাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব আর ফারাক্কার মরুকরণে নওগাঁর ৬টি নদী শুকিয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে পানি শুন্য হয়ে পড়ায় বোরো সেচ নিয়ে শঙ্কিত নদী তীরের হাজার হাজার কৃষক। অন্যদিকে দখল আর দুষণ চলছে প্রতিযোগিতা করে। দিন দিন নওগাঁর বুক থেকে এই ৬টি ঐতিহ্যবাহী নদী হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে খরস্রোতা সিরামাখালী নদীটিও। জলশুন্য হয়ে পড়ায় বেকার হয়ে পড়েছে নদী নির্ভর শত শত মৎস্যজীবীরা।
বর্ষা মৌসুমে পানি থাকলেও খরা মৌসুমে প্রতি বছর নদীটি সম্পূর্ন শুকিয়ে যায়। বর্তমানে নদীর বাসিন্দারা তাদের পরিত্যক্ত সব ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলে। নদীটি এখন যেনো একটি ময়লার ভাগাড়। যার যখন মনে হয় তখন তাদের ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলে । এতে নদীটির পানি দুষনসহ পরিধি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে নদী দুষনের পরিমান মারাত্মক আকার ধারন করবে। এক সময় এসব নদীতে ছিল মাছে ভরপুর কিন্তু পানি দূষনের কারনে শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুম ছাড়া আর মাছ পাওয়া যায় না। এতে করে অনেক জেলেরা তাদের পৈতিক পেশাটি বদলিয়ে ফেলেছে। আবার কোথাও প্রভাবশালীরা নদীর দুইধার অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তুলেছে ভবন।

নদী প্রকৃতির দান। এ দেশের অর্থনীতিও নদীনির্ভর। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নদী-নালার ওপর নির্ভরশীল। অতএব, নদীর অস্তিত্ব বিপন্ন হলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পেশার মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। নদ-নদী এখনো প্রবাহমান রয়েছে সেসব নদ-নদী রক্ষার উদ্যোগ কর্তৃপক্ষকে আশু নিতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদ-নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদি নদীগুলো এভাবে তাদের অস্তিত্ব হারাতে থাকে তাহলে অচিরেই পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। যা আমাদের চিরায়ত জলবায়ুর বিরুদ্ধে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। আর এ সব কারণেই দেশের নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে দখলমুক্ত করতে হবে। নদী পথকে আরও আধুনিকায়ন ও সড়কপথের তুলনায় গুরুত্ব দিতে পারলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হতো। আমাদের জনজীবনে নদীর গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও নদী রক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মধ্যে প্রবহমান অন্যান্য নদ-নদীর মতো দেশের সিরামাখালী নদীকে বাঁচানোই এখন সময়ের দাবি।ছবি-প্রতিকী

লেখকঃ গবেষক,সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব, মানিকগঞ্জ,সাংবাদিক ও কলামিস্ট