মমতাজের পক্ষে শ্লোগান দিয়েই দুই অভিভাবককে বেধড়ক পিটুনি

সংবাদ জমিন,অনলাইন ডেস্কঃ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচন পণ্ড হওয়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই বিদ্যালয়ে সভাপতি পদে মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এবং হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোট শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তেই পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে মমতাজ বেগমের পক্ষে স্লোগান দিয়ে উপজেলা ও জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। মমতাজ বেগমের পক্ষে নেতাকর্মীরা ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য জেলা বিএনপি প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন মঞ্জু ও মিজানুর রহমান নামের আরেক অভিভাবক সদস্যকে বেধড়ক মারধর করে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। আহত অবস্থায় দুই অভিভাবক সদস্যকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই তাদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান আরেক সভাপতি প্রার্থী দেওয়ান সাইদুর রহমান। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার কামরুল ইসলাম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, গত ১৮ই জুলাই ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্য পদে ভোটের মধ্যদিয়ে চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন। রোববার ছিল সভাপতি পদে নির্বাচন। এই নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন দেওয়ান সাইদুর রহমান ও এমপি মমতাজ বেগম। তবে এদের কেউই সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও একটি পক্ষ এমপি মমতাজ বেগমের নাম ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন

অপরপক্ষ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান সাইদুর রহমানের নাম প্রস্তাব করেন। রোববার দুপুর একটার পরপর দুই পক্ষের লোকজন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে। পুলিশ দুই পক্ষের লোকজনকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়ার এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়।

এরপর বেলা ৩টার দিকে ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জনের উপস্থিতিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার প্রিজাইডিং অফিসার কামরুল ইসলাম নির্বাচনের জন্য সভা শুরু করেন। নিরাপত্তার কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অভিভাবক সদস্য মহিউদ্দিন মঞ্জু ও মিজানুর রহমানকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলা থেকে নিচ তলায় সভা কক্ষে নিয়ে আসার সময় জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াত স্লোগান দিয়ে দুই অভিভাবক সদস্যকে ছিনিয়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। ঘটনার আধাঘণ্টা পর হরিরামপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বিদ্যালয়ে এসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বহিরাগতদের বাইরে বের করে দেন। পরবর্তীতে প্রিজাইডিং অফিসার সভা শুরু করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে তিনি নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। এদিকে ছাত্রলীগের হাতে দুজন অভিভাবক সদস্য প্রহৃত হওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম।

আহত অভিভাবক সদস্য জেলা বিএনপি’র প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন মঞ্জু বলেন, আমি যাতে আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে না যেতে পারি সেজন্য এমপি মমতাজের পক্ষের লোকজন কয়েকদিন ধরে আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। আমার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলাও করা হয়।

সভাপতি প্রার্থী হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরেই সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের পক্ষের লোকজন ও পুলিশ ম্যানেজিং কমিটির ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে। নির্বাচনের দিন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যের লোকজন দুইজন অভিভাবক সদস্যকে মারধর করে। নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন স্থগিত করেছেন।

এমপি মমতাজ বেগম জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও নির্বাচিত সদস্যরা তাকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি নিজে ওই বিদ্যালয়ে সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। বিদ্যালয়ে দুর্নীতি ঠেকাতে হয়তো তার নাম প্রস্তাব করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। সূত্র-মানবজমিন