বদলগাছীতে ভুয়া সনদে বাড়ানো হচ্ছে বয়স : বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিয়ে

 

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে ভুয়া জন্ম সনদে বাড়ানো হচ্ছে বয়স বন্ধ হচ্ছেনা বাল্যবিবাহ। বদলগাছী উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি তৎপরতা থাকলেও অভিভাবকদের কারণে বাল্যবিয়ে হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমতে জানা যায়। গত কয়েক দিন আগে উপজেলার কোলা ইউপির আক্কেলপুর সুতাহাটি গ্রামের নাসির (মকছেদ) এর মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সোহাগী আক্তার এর সাথে কেশাইল গ্রামের মিন্টুর ছেলে ১০ম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হোসেনের বিয়ে হয়, তারা দুজনেই ভান্ডারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতেন।

এ বিষয়ে কোলা ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম(স্বপন)বলেন, বিষয়টি আমার জানা মতে মেয়ে ছেলের বাড়ি বিয়ের দাবিতে অনশন করে এ জন্যই বিয়ে হয়। সচেতন মহল দায়ী করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কারণ তারা ভূয়া এই জন্ম সনদে বয়স বাড়িয়ে দিয়ে সহায়তা করছেন। আর এই সনদকে বড় প্রমাণ হিসাবে কাজে লাগিয়ে অল্প বয়সের মেয়েদের বিয়ের পিরিতে বসাচ্ছেন।

অভিভাবকেরা মনে করছে যত তারাতারি ভাল পাত্র দেখে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল। বদলগাছী উপজেলা ব্রাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মকর্তা মোমুনিল ইসলাম বলেন, আমরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মাঠে কাজ করছি একদিকে অভিভাবকদের অসচেতনতা অন্যদিকে ভূয়া সনদে বিবাহ বন্ধনে জড়িয়ে পড়ছে। বিয়ের কিছুদিন পর বিছেদের ঘটনা ঘটছে অহ রহ।

এবিষয়ে ব্রাক মানবধিকার কর্মসূচির বদলগাছী উপজেলা কর্মকর্তা রুপা আকতার বলেন, কয়েক মাসে ৩০টি দাখিল হওয়া মামলা তদন্ত করতে গেলে বেশির ভাগ বিয়ের কাজী অফিসে বিবাহের কোন কাবিন নামা পাওয়া যায়না। যার কারণে মামলা নিস্পত্তি করতে জটিলতায় পড়তে হয়। হিসাব মত একটি অষ্টম বা নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীর ১১ থেকে ১৪ বছর বয়স হয় সেখানে অনেক সময় চেয়ারম্যান কর্তৃক জন্মসনদে দেখা যায় ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়স করে দেওয়া হয়, ফলে দিন দিন বাল্যবিবাহ এবং স্বামী পরিত্যক্তার হাড় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পপনা অফিসার ডাঃ কানিস ফারহানা বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের জরায়ু সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ে। তাছাড়া অল্পবয়সে মা হতে গেলে মা ও বাচ্চার দুজনেরই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে বেশি।

বদলগাছী সদর ইউনিয়নের কাজী মনজের আলী বলেন, আমরা জন্ম সনদে বয়স দেখে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করি।

বদলগাছী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন, বাল্যবিবাহ দিনদিন বেড়েই চলেছে তবে আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স অনুপাতে জন্ম সনদ দেওয়া হয়। গ্রামের কিছু মৌলবিরা রেজিস্ট্রেরি ছাড়ায় বিয়ে পড়িয়ে দিচ্ছে। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলপনা ইয়াসমিন বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একটি কমিটি রয়েছে, তাদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিয়ে অনুষ্ঠানে ভ্র্যামমাণ আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ও জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও কাজীদের নিয়ে আলোচনা করে কাজীদের নিষেধ করা হয়েছে যেন কোন ভাবেই বাল্যবিবাহ না হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সামসুল আলম খাঁন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান যদি বয়স যাচাই করে সনদ দেয় তাহলে বাল্যবিবাহ কিছুটা রোধ করা সম্ভব।

 

শিরোনাম