প্রকৃতির বিচিত্র লীলায়-লীলায়িত খরস্রোতা ভাটা নদী

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তর্গত বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। শাখা-প্রশাখাসহ প্রায় ৮০০ নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকাই শত শত নদীর মাধ্যমে বয়ে আসা পলি মাটি জমে তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” বাংলাদেশের নদীগুলোকে সংখ্যাবদ্ধ করেছে এবং প্রতিটি নদীর একটি পরিচিতি নম্বর দিয়েছে। এর ফলে তাদের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা এখন ৪০৫টি। ১৭৮৩ সালে জেমস রেনেল অংকিত বাংলাদেশের মানচিত্র যে নদী-নালাগুলোর বিবরণ রয়েছে বর্তমানে সেগুলি চিহ্নিত করা কষ্টসাধ্য। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে এবং পরিত্যক্ত গতিপথ ভরাট হয়ে পুরানো নদীপথের চিহৃ মুছে গেছে। আবার একই নদীর গতিপ্রবাহ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত।
হাজারো নদীর দেশ বাংলাদেশে। অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। নদীকে ঘিরেই শুরু হয়েছে আমাদের এই বঙ্গে বসবাস। পাউবো কর্তৃক সারা দেশে প্রায় ৪০৫টি নদ-নদীর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশে ছোট বড় সব মিলিয়ে ২৩০ থেকে ২৪০টির মতো নদ- নদী সরকারি হিসেব আছে। এসব নদীগুলোর মধ্যে ৫৭ টি হচ্ছে আন্তসীমান্ত নদী যার মধ্যে ৫৪টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন এবং ৩টি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে অভিন্ন। বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ভাটা নদী একটি।
ভাটা নদী একটি ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত নদী। বেরং নদীর উপনদী ভাটা নদী। এই নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের পঞ্চগড়রে বিলাঞ্চলে। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানার শীতলগছ, লালগছ হয়ে নদীটি ভারতে প্রবেশ করেছে।শীতপাড়ায় বেরংয়ের সাথে মিলিত হয়েছে ভাটা নদী। এই নদীর জলপ্রবাহ ক্রমেই কমতে থাকায় এই নদী ভাটা নামে অভিহিত। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার। গভীরতা না থাকলেও বর্ষায় এই নদীর কারণে দুকূল প্লাবিত হয়।
মূলত ভাটা নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানা সমষ্টি উন্নয়ন বলকের একটি নদী। ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। নদীটিতে জোয়ার ভাঁটার প্রভাব থাকে না। ভাটা নদী বেরং নদীর উপনদী যা বেরং নদীর ডান তীরে এসে মিলিত হয়েছে। এই নদীর পানির প্রবাহ ক্রমাগত কমতে থাকায় এই নদী ভাটা নামে অভিহিত হয়েছে।
ভাটা নদীটি বড় বিল এলাকায় গোবরা নদীর থেকে বের হয়ে আসা একটি চ্যানেল থেকে জল সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত অতিক্রম করেছে। সীমানা অতিক্রম করে নদীটি উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানার বড় ডাঙ্গাপাড়ায় একটি হ্রদ তৈরি করেছে। এই নদীটি ডাঙ্গাপাড়ায় তিস্তা নদী ক্যানেল, যা গজলডোবা ব্যারেজের জল প্রবাহের জন্য তৈরি, দ্বারা বাঁধা পেয়ে তার উৎসমুখ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। নদীটি ছোট ডাঙ্গাপাড়া থেকে এগিয়ে ঝাঁঝরি অঞ্চলে উত্তর দিকের একটি ছোট প্রবাহ গ্রহণ করে পুনরায় কিছুটা রূপ ফিরে পেয়েছে। এরপর নদীটি ভাগলপুর খাস পেরিয়ে ভগবতিতে বেরং নদীতে নিপতিত হয়েছে।

এই নদীর তীরে বাংলাদেশ ও ভারতের অনেকগুলো চাবাগান যথা ফারক চাবাগান, দশভুজা চাবাগান, নিজাম চাবাগান, বিমান চাবাগানসহ অনেক চাবাগান অবস্থিত। ঝাজরি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই নদীর তীরে অবস্থিত। এছাড়াও নদীটির এখন অনেক ছোট ছোট বাজার গড়ে উঠেছে। এই নদী অববাহিকায় সেচের জন্য কোনো জল সংরক্ষণ করা হয় না, যদিও তিস্তার জল এনে তিস্তা ক্যানাল দিয়ে সেচ দেয়া হয়। এই নদীতে কোনো রেগুলেটর নেই বা তবে ক্যানাল তৈরি করে, এটির উৎসের সাথে সংযোগকে খুন করা হয়েছে। এই নদীতে কোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। এই নদীর উপর অনেকগুলো ছোট ছোট ব্রিজ আছে।
ভাটা নদীতে সারা বছর পানি প্রবাহ থাকে না, তবে বর্ষা মৌসুমে যথেষ্ট পানি প্রবাহিত হয়। নদীটি বন্যাপ্রবণ বা ভাঙনপ্রবণ নয় এবং শুকনো মৌসুমে নদীটি শুকিয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে উজানে নদীটি শুকিয়ে যায় এবং নদীর কিছু এলাকাজুড়ে ধান চাষ করা হয়। পলির প্রভাবে এ নদী ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং পূর্বের তুলনায় এই নদীর প্রবহমানতা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।
উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এবং বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের নদনদীর তালিকায় মোট নদী আছে ৪৭টি। এই জেলার ৮টি আন্তঃসীমান্ত নদী হচ্ছে মহানন্দা, করতোয়া, ডাহুক, তালমা, ঘোড়ামারা, বুড়ি তিস্তা, টাঙ্গন ও নাগর। পঞ্চগড়ে তালিকাবহির্ভূত ১১টি আন্তঃসীমান্ত নদী হচ্ছে বেরং, কুড়ুম, চাওয়াই, ভেরসা, গোবরা, রনচন্ডি, যমুনা, পাঙ্গা, আলাইকুমারী, ভাটা ও শাঁও। এছাড়াও আছে ২৭টি অভ্যন্তরীণ নদী যেগুলো হচ্ছে খরখরিয়া, ঘাগরা, বোরকা, পাম, সুই, ছাতনাই, কুরুন, কালিদহ, রাঙ্গাপানি, দারা, পাথরাজ, বহু, হাতুড়ি, ভুল্লি,পেটকি, রসেয়া, পাইকানি, তিস্তাভাঙ্গা, বহিতা, শালমারা, চিলকা, জারী, বাঘমারা, কাটগিরি, সিংগিয়া, হুয়ারী ও ঝিনাইকুড়ি নদী। যেসব নদী সমুদ্র থেকে দূরে, সেসব নদীর নাব্যতা কমে যেতে পারে। কিন্তু সমুদ্রসংলগ্ন যে নদীতে নিয়মিত জোয়ারভাটা হয়, সেই নদীতে নাব্যতা কমে গেলে বুঝতে হবে পানির প্রবাহ কোথাও না কোথাও ব্যাহত হচ্ছে।
উজানের পানি প্রবাহ যেমন কমেছে, তেমনি নদী খেকোদের ভয়ঙ্কর থাবায় দেশের বহু নদী মরে গেছে। যুগের পর যুগ ধরে মরা নদী নিয়ে কোনো কাজ হয়নি। এসব নদীতে কীভাবে জোয়ার-ভাটার পানি ফেরোনো যায় তাও ছিল চিন্তার বাইরে। এসব মরা নদী নিয়ে কাজ করছে নদী কমিশন।

পঞ্চগড় জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা। পঞ্চগড় জেলার মাটি বালুকাময়, জলাভূমি এবং পুরাতন হিমালয় বেসিনের মাটির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত। সমুদ্রতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট (৪৬ মিটার)। দেশের মধ্যে প্রবহমান অনেক নদীই আজ বিপর্যয়ের সম্মুখিন। পঞ্চগড় জেলা শহরের উপকণ্ঠে প্রবহমান তালমা নদীও দখল চলছে। এসব নদ-নদীর মতোই দখল-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ভাটা নদী।
পৃথিবীর বাইরের মহাকর্ষীয় শক্তির (বিশেষ করে চাঁদের) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল নিয়মিত বিরতিতে ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা বলা হয়। জোয়ার-ভাটার ফলে সমুদ্রে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়,তাকে জোয়ার তরঙ্গ বলে। জোয়ারের জল উপকূলের দিকে অগ্রসর হলে জল সমতলের যে উত্থান ঘটে, তাকে জোয়ারের জলের সর্বোচ্চ সীমা এবং ভাটার জল সমুদ্রের দিকে নেমে যাওয়ার সময় পানি সমতলের যে পতন ঘটে, তাকে জোয়ারের জলের সর্বনিম্ন সীমা বলে। দেশের অনেক নদ-নদীই জোয়ার ভাটা দ্বারা প্রভাবিত আবার অনেক নদীতে জেয়ার নেই। এমনি একটি নদী ভাটা নদী। বর্ষায় ডুবে থাকলেও বাকি সময় থাকে শুকনো। এসব নদীতে একসময় ছিলো দেশিয় নানা প্রজাতির মাছ কিন্তু কালের পরিক্রমায় বিলুপ্ত হয়েছে গেছে এসব মাছ।
বস্তুত সারা দেশের নদী ও খালগুলোর তীরের বিস্তীর্ণ এলাকাই বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে চলে গেছে। নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে সারা দেশে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও লক্ষ করা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের পর আবারও শুরু হয় দখলের প্রতিযোগিতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দখলদাররা নদীতীরের সীমানা পিলার পর্যন্ত উপড়ে ফেলে দেয়। কোনো কোনো স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদার ভুয়া দলিল ও কাগজপত্র তৈরি করে মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য যেভাবেই দলিল করা হোক না কেন, কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিলে নদী রক্ষা আইন অনুযায়ী তীরের দখলকৃত জায়গা যে কোনো সময় উদ্ধার করা সম্ভব।
সারা দেশের নদীগুলোর ভয়াবহ দূষণের বিষয়টিও বহুল আলোচিত। দেশে বিভিন্ন নদীর পানি কতটা দূষণের শিকার। নদীগুলোর দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়। শিল্প-কারখানার বর্জ্য যাতে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। সেসব রাসায়নিক পদার্থের সামান্য অংশও যাতে আমাদের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষার কয়েক মাস ছাড়া সারা বছরই এখন দেশের বিভিন্ন নদীতে নাব্যতা সংকট লক্ষ করা যায়। এ অবস্থায় সারা দেশের নদী দূষণরোধে বাড়তি কিছু পদক্ষেপও নিতে হবে।

আবার দেখা যায়,উজানে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বিলীন হওয়ার পথে বৃহত্তর দিনাজপুরের ১৯টি নদ-নদী। এসব নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বড় বড় চর ভেসে উঠেছে। এসব নদীতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে। মানুষজন পায়ে হেঁটে নদী পার হচ্ছে। প্রবাহমান এসব নদ-নদী শাখা-প্রশাখা নদী, ছড়া নদী, নালাগুলো এখন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে।
‘চোখের সামনে নদ-নদী শেষ হয়ে যাচ্ছে, একসময় নদীর পাড় পর্যন্ত পানি থৈ থৈ করতো। ছিলো জোয়ার ভাটা।এখন পানি পাওয়া যায় না তলানীতেও। কি যে হলো আস্তে আস্তে নদী মরে যাচ্ছে। ভাটির দেশ বাংলাদেশকে ভারত পরিকল্পিতভাবে মরুভূমি বানাচ্ছে’। একসময়ের প্রমত্তা,খরস্রোতা নদীগুলো এখন কালের সাক্ষী। এমনি কালের সাক্ষী খরস্রোতা ভাটা নদী।
নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছিলো হিমালয় থেকে ছুটে আসা অসংখ্য নদ-নদীর প্রবাহ থেকে। যে প্রবাহের সাথে বহমান বিন্দু বিন্দু পলিমাটি হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে তুলেছিল পৃথিবীর বৃহত্তম এই ব-দ্বীপ। এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা সবকিছুতেই রয়েছে নদীর প্রভাব। একসময় এই নদীর বুকেই ভেসে গিয়েছে বড় বড় বানিজ্যিক জাহাজ। নদীর পাড়ে মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে তৈরী হয়েছে গান, কবিতা, উপন্যাস ও চলচ্চিত্র। মুলত তিব্বতী ভাষায় বঙ্গ অর্থ ভেজা। আবার বাংলায় বঙ্গ শব্দটি বহন এবং ভাঙ্গার সাথে জড়িত।
নদী যে অঞ্চলে উৎপত্তি লাভ করে তাকে নদীর উৎস এবং যে স্থানে সমুদ্রে বা হ্রদে মিলিত হয় সেই স্থানকে মোহনা বলে। নদীর চলার পথে কখনো কখনো ছোট ছোট অন্যান্য নদী বা জলধারা এসে মিলিত হয়ে প্রবাহ দান করে- এগুলো উপনদী নামে পরিচিত। একটি নদী এবং এর উপনদীসমূহ একত্রে একটি নদীপ্রণালী বা নদীব্যবস্থা গঠন করে। ভূ-পৃষ্ঠ কখনো পুরোপুরি সমতল নয়। ফলে বর্ষণসৃষ্ট জলধারা ঢালুতম পথে ভূ-পৃষ্ঠের একাধিক ঢাল পরিচ্ছেদনের ফলে সৃষ্ট অবতল-নিচু অংশে প্রবাহিত হওয়ার প্রবণতা প্রদর্শন করে। নদী গঠনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আয়তন ও গতিবেগসম্পন্ন একাধিক প্রবাহের মিলিত ধারা যা অন্তঃস্থ ভূমি ও শিলাকে ক্ষয় করে খাতের সৃষ্টি করে এগিয়ে যেতে পারে। নদী রক্ষায় এবং নদী খননে আগের তুলনায় বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ এখন চোখে পড়ছে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে আরও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন নদীদূষণ রোধ করা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও নদী রক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।দেশের মধ্যে প্রবহমান অন্যান্য নদ-নদীর মতো দেশের ভাটা নদীকে বাঁচানো জরুরী হয়ে ওঠেছে। ছবি–প্রতিকী
লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ(কারাতে ব্লাক বেল্ট ১ম ড্যান),সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি,
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,শিক্ষক, গবেষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট