কলাম ঃঃ প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ প্রশাসনের লাগাম টেনে ধরা

 

শোয়েব খান ঃঃ
২০১৪ এর সংসদ নির্বাচনের পর থেকে প্রশাসনের কেউ কেউ মাঠ পর্যায়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছেন। সাধারণ জনগনকে উনারা মানুষ বলেই মনে করেন না। সম্মানিত এমপি-মন্ত্রী, নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিসহ কাউকেই তারা পাত্তা দিতে চান না। আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী সমর্থকরা তাদের কাছে নাজেহাল হয় রীতিমত।

কোভিট ডিউটিতে থাকা নারী ডাক্তারকেও তারা বিরত্ব দেখাতে কার্পণ্য করেন না। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের বাড়াবাড়িও কারো কাছে কাম্য না। তাদের ঔদ্ব্যত্বপূর্ণ আচরণ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।
আওয়ামী লীগের কোন নেতা তাদের কাছে কোন কাজে গেলে সরকারের একমাত্র শক্তি ও রক্ষক হিসেবে তারা নানা গল্প শোনায়।

“তারা ছাত্রলীগ করে নির্যাতিত, জামার নীচে কোপের দাগ এখনো আছে” এমন ভূয়া কথা বলে ভাব দেখান। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কার্যক্রম ও দায়িত্বকে তারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে নিজেদেরকে মহাক্ষমতাধর হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন৷ ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা দলীয় পরিচয় দিলে তারা দূর্ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। তাদের ভাব নমুনা দেখলে মনে হয় তারাই এদেশের রাজা-মহারাজা, আর সবাই তাদের গোলাম। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তিকে খর্ব করে আমলাতন্ত্র কায়েমই তাদের কাজ। তারা বুঝতে চেষ্টা করে না, লগি-বৈঠার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক শক্তি দিয়েই সবকিছু মোকাবেলা করেছিলো।

তাদের মধ্যে একটি বাহিনীর ২/১ টি জেলার কিছু কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বেপরোয়া কার্যক্রমে দলীয় লোকজনও আতঙ্কিত। জানতে না চাইলেও দাম্বিকতার সাথে নিজ জেলার পরিচয় তারা আগে দেন। ভালো পোস্টিং এবং যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগসহ সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন তারা। এদের গুটি কয়েকের কারণে বাহিনীটির সারা দেশের বঞ্চিত/উপেক্ষিত/কোণঠাসা সরকার সমর্থক সদস্যরাও দিনে দিনে হতাশ হচ্ছেন।

প্রশাসনের কারো কারো অতি বাড়াবাড়ি ও চেয়ারের দাপট অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্দ করে দিচ্ছে; নানাভাবে সরকারের গায়েও তারা কাদাঁ লাগাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ দূরে থাক, সরকার দলীয় জনপ্রতিনিধি ও সম্মানিত নেতৃবৃন্দও তাদের কাছে অনেক ক্ষেত্রেই অসহায়। দল টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকলেও তৃণমূলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের কোন সেক্রিফাইজ বা মূল্য তাদের কাছে নেই; কিছু দালাল বাটপারই তাদের কাছে সবকিছু।এদের লাগাম টেনে ধরা অপরিহার্য। ছবি-সংগৃহীত