ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি অক্ষয়চন্দ্র সরকার

মো.আলতাফ হোসেন ঃঃ
তৎকালীন সময়ে সাহিত্য জগতের সুচিন্তকদের মিল ঘটিয়েছিলেন অক্ষয়চন্দ্র সরকার। মধ্যযুগীর সমাজ-সংস্কৃতিকে কঠোরভাবে দমানোর জন্য ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার বুকে নবজাগরনের ঢেউ উপচে পড়েছিলো।সেকেলে যে কজন কবি,সাহিত্যিক, লেখক ও মুক্তচিন্তাবিদরা মধ্যযুগীর সমাজ-সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হলো অক্ষয়চন্দ্র সরকার।

ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট কবি,প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন অক্ষয়চন্দ্র সরকার। অক্ষয়চন্দ্রে জন্ম বর্তমান হুগলি জেলার চুঁচুড়ার কদমতলায়। পিতা ছিলেন সেযুগের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক রায়বাহাদুর গঙ্গাচরণ সরকার। শিক্ষা প্রথমে হুগলি কলেজিয়েট স্কুল ও পরে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে।কর্মজীবনে কবি প্রথমে বহরমপুরে ও পরে চুঁচুড়ায় ওকালতি করতেন। প্রথম যৌবনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বঙ্গদর্শন পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। ১৮৭২ সালে বঙ্গদর্শনের প্রথম সংখ্যায় তার উদ্দীপনা নামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।এরপর অক্ষয়চন্দ্র ১৮৭২ সালে মাসিক নবজীবন ও ১৮৭৩ সালে সাপ্তাহিক সাধারণী নামে দু’টি পত্রিকা প্রকাশ করেন। নবজীবন চলেছিলো ১৮৭৮ সাল অবধি।হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,নবীনচন্দ্র সেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর মতো লেখকেরা এই জনপ্রিয় চিন্তাশীল পত্রিকাটিতে লেখালেখি করেন। রামেন্দ্রসুন্দরের প্রথম বাংলা রচনা এই পত্রিকাতেই প্রকাশিত হয়। গ্রাম চুঁচুড়া থেকে প্রকাশিত সাধারণী পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিলো রাজনৈতিক আলোচনা ও হিন্দুসমাজের মূল দৃঢ় করা।বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়,বঙ্গবাসী পত্রিকার যোগেন্দ্রচন্দ্র বসু প্রমুখ প্রথম সারির সাহিত্যিকের রচনা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

১৮৭৪ সালে গোচারণের মাঠ নামে একটি যুক্তাক্ষর বর্জিত শিশুপাঠ্য কাব্য ও সেই বছরেই শিক্ষানবীশের পদ্য নামে আর একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। সারদাচরণ মিত্রের সহযোগিতায় সম্পাদনা করেছিলেন প্রাচীন কাব্যসংগ্রহ নামে একটি কাব্যসংকলনও। ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে খন্ডে খন্ড প্রকাশিত এই কাব্যে স্থান পায় বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, গোবিন্দদাস,মুকুন্দ চক্রবর্তী প্রমুখ মধ্যযুগীয় কবিদের কাব্যকৃতি। অবশ্য কবিতা অপেক্ষা গদ্যরচনাতেই তিনি অধিক খ্যাতিলাভ করেন। ১৮৭৪ সালে রচিত সমাজ সমালোচনা এবং মৃত্যুর পরে ১৯২৩ সালে প্রকাশিত রূপক ও রহস্য তার গদ্য রচনার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ১৯০৪ সালে বঙ্গভাষার লেখক গ্রন্থের পিতাপুত্র প্রবন্ধটি তার একটি মূল্যবান সাহিত্যকীর্তি। এই গ্রন্থে পিতা গঙ্গাচরণ সরকার ও নিজের সাহিত্য জীবনের কথা লিখেছিলেন তিনি। অন্যান্য রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে কবি হেমচন্দ্র,সংক্ষিপ্ত রামায়ণ,মোতিকুমারী, মহাপূজা, সনাতনী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।রাজনৈতিক ক্ষেত্রে রেন্ট বিল ও এজ অব কনসেন্ট বিল (অ্যাক্ট ১০)-এর বিরুদ্ধে প্রবল ব্রিটিশ-বিদ্বেষী ও স্বদেশী দ্রব্য প্রচলনের সমর্থক হলেও ছিলেন কংগ্রেসি মধ্যপন্থী। বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের ষষ্ঠ অধিবেশনের মূল সভাপতি,বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ-এর সহ-সভাপতি ও ভারতসভার প্রথম যুগ্ম সহ-সম্পাদকের পদ আবৃত করেন অক্ষয়চন্দ্র। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ১৮৮৬ অধিবেশনে উৎসাহী কর্মীরূপে যোগ দিয়েছিলেন।রায়তদের স্বার্থরক্ষায়ও সচেষ্ট ছিলেন। সাহিত্য ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্রের ভাবশিষ্য হলেও বঙ্কিমি দৃঢ়তা ও ঋজুতা তার লেখায় অনুপস্থিত ছিলো।

অক্ষয়চন্দ্র সরকার কবি,সাহিত্যিক ও সমালোচক ছিলেন। ১৮৭৬ সালে ‘ভারত-সভা’ প্রতিষ্ঠিত হলে কবি অক্ষয়চন্দ্র সরকার এর প্রথম সহকারী যুগ্মসম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি তিন বার (১৮৯৭,১৮৯৮ ও ১৯১৩ সালে) বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন।বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদের উদ্যোগে ১৩১৮ সনের ১৯-২১ ফাল্গুন চুঁচুড়ায় পঞ্চম বঙ্গীয়-সাহিত্য-সম্মিলন হয়।অক্ষয়চন্দ্র সরকার এর অভ্যর্থনা-সমিতির সভাপতি হয়েছিলেন। পরের বছর ৯-১০ চৈত্র চট্টগ্রামে ষষ্ঠ বঙ্গীয়-সাহিত্য-সম্মিলন অনুষ্ঠিত হলে তিনি এর সভাপতি নির্বাচিত হন।

বঙ্গদর্শন পত্রিকার লেখক হিসেবে অক্ষয়চন্দ্র সরকারের সাহিত্যিক-খ্যাতি অর্জিত হলেও,সারদাচরণ মিত্রের সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায়-প্রাচীন কাব্যসংগ্রহ (১৮৭৪-৭৭),নিজের লেখা গোচারণের মাঠ (১৮৮০)-যা যুক্তাক্ষর বর্জিত পয়ার ছন্দে লেখা পল্লিচিত্র এবং নবজীবন (১৮৮৪-১৮৮৯) পত্রিকা সম্পাদনা তাঁকে সর্বসাধারণের মধ্যে সমধিক পরিচিত করে তোলে। নবজীবন পত্রিকাটি ধারণ করেছিলো সমকালের সমাজ,সংস্কৃতি,ধর্ম,রাজনীতি ও সাহিত্য-সমালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেসব বিষয় নিয়মিত আলোচনা করতেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,নবীনচন্দ্র সেন,অক্ষয়চন্দ্র সরকার প্রমুখ কবি ও সাহিত্যিক।সে সময়ে এঁদের সাহিত্য,সমাজ ও ধর্মভিত্তিক আলোচনাগুলি প্রধানত সম্পাদকের মধ্যবর্তিতায় আলোচিত হয়েছে। নবজীবন সম্পাদনাকালেই অক্ষয়চন্দ্র সরকার বিশেষ করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভক্তিমান শিষ্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে অক্ষয়চন্দ্র সরকার সাহিত্য রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাষারীতি অনুসরণ করলেও তাঁর নিজস্বতা ছিলো। তাঁর আত্মজীবনী পিতা-পুত্র গ্রন্থে তাঁর ভাষার বিশিষ্টতা যেমন লক্ষ করা যায়,তেমনি লক্ষ করা যায় সেকালের সামাজিক ও সাহিত্যিক ঘটনাবলী। অক্ষয়চন্দ্র সরকারের অন্যান্য রচনার মধ্যে সমাজ-সমালোচনা (১৮৭৪), সংক্ষিপ্ত রামায়ণ (১৮৮২), সনাতনী (১৯১১), কবি হেমচন্দ্র (১৯১২) প্রভৃতি প্রধান।

ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি,প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক অক্ষয়চন্দ্র সরকার রায়বাহাদুরের পুত্র হয়েও ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের প্রবল সমর্থক অক্ষয়চন্দ্র দেশীয় শিল্পের পুনরুজ্জীবন ও স্বায়ত্তশাসনের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষপাতী ছিলেন। পুনরুজ্জীবন ও স্বায়ত্তশাসনের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষপাতী ছিলেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে রেন্ট বিল ও এজ অব কনসেন্ট বিল (অ্যাক্ট ১০)-এর বিরুদ্ধে প্রবল ব্রিটিশ-বিদ্বেষী ও স্বদেশী দ্রব্য প্রচলনের সমর্থক হলেও ছিলেন কংগ্রেসি মধ্যপন্থী। বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের ষষ্ঠ অধিবেশনের মূল সভাপতি,বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ-এর সহ-সভাপতি ও ভারতসভার প্রথম যুগ্ম সহ-সম্পাদকের পদ আবৃত করেন অক্ষয়চন্দ্র। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ১৮৮৬ অধিবেশনে উৎসাহী কর্মীরূপে যোগ দিয়েছিলেন। রায়তদের স্বার্থক্ষায়ও সচেষ্ট ছিলেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মধ্যযুগীয় সমাজ-সংস্কৃতিকে তীব্র ঝাঁকুনি দেওয়ার যে উদ্যোগ দেখা দিলো,সেই নবজোয়ারের অন্যতম প্রদর্শন ঘটল ওই শতাব্দীর বিশের দশকের শেষ দিকে। ১৮২৮ সালের ২০ অগাস্ট, ফিরিঙ্গি কমলকুমার বসুর আপার চিৎপুর রোডের বাড়িতে ব্রাহ্ম সভার উদ্বোধন হলো।নব্য এই আন্দোলনের পুরোভাগে থাকলেন রামমোহন রায়, রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ, দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো বিদ্বান-সংস্কারকগণ। এই সংগঠনের মুক্তকণ্ঠী (বিশেষ ক্ষেত্র অনুযায়ী) মানসিকতার ঠিক বিপরীত মুখে দাঁড়িয়ে সমকালীন সময়ে আরও কয়েকজন বিদগ্ধ মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল,যাঁরা পাশ্চাত্য শিক্ষাকে সাদরে বরণ করে নিয়েও জাতপাত এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে যেতে পারেননি বরং বলা যায়,সচেতনভাবেই তাঁরা সেই সীমাবদ্ধতাকে ঝেড়ে ফেলতে রাজি হননি।যেমন,ভূদেব মুখোপাধ্যায়। যেমন,ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি ‘রসরাজ’ উপাধি পেয়েছিলেন) এবং এদের সঙ্গেই আরও একজনের নাম উচ্চারিত হয় আর তিনিই হলেন কবি অক্ষয়চন্দ্র সরকার।

পেশায় উকিল অক্ষয় জন্মসূত্রে চুঁচুড়ার হলেও পেশাগত তাগিদে বহরমপুরে আগমন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বহরমপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর।ওকালতিতে খুব একটা সাফল্যের মুখ দেখেননি,তাই সব ছেড়ে সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করলেন তিনি। ১৮৭২ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত ‘বঙ্গদর্শনের’ প্রথম সংখ্যাতেই (১২৭৯ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ) তাঁর একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। নাম ছিলো ‘উদ্দীপনা’। এর ঠিক দেড় বছর পরে অক্ষয়চন্দ্র নিজস্ব পত্রিকা শুরু করলেন। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্ম নিলো ‘সাধারণী’।প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রায় একবছর কাঁঠালপাড়ায় বঙ্গদর্শনের প্রেসেই ছাপা হতো ‘সাধারণী’। পরে চুঁচুড়ায় অক্ষয়চন্দ্রের নিজস্ব ছাপাখানা তৈরি হলে সেখান থেকেই বেরোত এই পত্রিকাটি। বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতাবশত বঙ্কিম সাধারণী-র জন্য ‘জাতিবৈরি’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখে দিয়েছিলেন। সাময়িক পত্রে সমালোচনা-মূলক নিবন্ধকে নিয়মিত করে তুলতে বঙ্কিমের চেয়েও অনেক বেশি অবদান রয়েছে অক্ষয়চন্দ্রের। যদিও,অধ্যাপক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে,অক্ষয়চন্দ্রের সমালোচনা রচনায় ‘সুসমগ্র সামগ্রিক গঠন’ ছিলো না। বেশিরভাগ সমালোচনাই ব্যক্তি-আবেগ ও ভাষার অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে ঔদার্য্য হারিয়েছে। সাংবাদিকতার ব্যস্ত পেশা তাঁর এই ক্ষমতার উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হয়।

‘সাধারণী’ চলেছিলো টানা ষোল বছর। শেষের দিকে অর্থাভাব ও লোকাভাবে গঙ্গাধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নববিভাকর’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। অবশেষে ১৮৮৯ সালে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিতে হয়। তবে সাধারণী-র চেয়েও অক্ষয়চন্দ্র বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় হয়ে আছেন ‘নবজীবন’পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে। বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় সম্পাদিত পত্রিকা ‘প্রচার’-এর সঙ্গেই প্রকাশিত হওয়া শুরু করে ‘নবজীবন’। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর প্রথম রচনা এই পত্রিকাতেই। ১৮৮৫-র জানুয়ারি সংখ্যায় তাঁর লেখা ‘মহাশক্তি’ এখানে প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সময়ের সাহিত্য জগতের সুচিন্তকদের মিলন ঘটত এই পত্রিকায়। সেখানে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণরা যেমন থাকতেন,তেমন উদীয়মান তরুণদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলি ছিলো রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।‘নবজীবন’-এর আয়ুষ্কালও ১৮৮৯-তে সমাপ্ত হয়েছে। এরপর অক্ষয়চন্দ্র যোগ দিয়েছিলেন যোগেন্দ্রচন্দ্র বসুর ‘বঙ্গবাসীতে। এখানেই তাঁর ইংরেজ-বিরোধী স্বদেশিয়ানার প্রকট প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। ১৮৯১ সালে বঙ্গবাসীতে প্রকাশিত পাঁচটি প্রবন্ধের বিরুদ্ধে যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয়,তার দুটির রচয়িতা ছিলেন অক্ষয়চন্দ্র। তাঁর স্বদেশপ্রীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেছিলেন- “বলিবেন,অক্ষয়বাবু বাঙ্গালীকে কি দিয়াছেন যে আমরা তাঁহার এত বড়াই করি? আমি বলি,যাহা আর কেহ দেয় নাই।সেটা কী? বাঙ্গালীয়ানা,বাঙ্গালীত্ব, আমি বাঙ্গালী এই বোধ।”বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশনের প্রধান সভাপতি,বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহ-পরিষদ ও ভারতসভার প্রথম যুগ্ম সহ-সম্পাদকের পদে আসীন হন তিনি।১৮৮৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এক অধিবেশনে উৎসাহী কর্মীরূপে যোগদান করেন। রায়তদের স্বার্থরক্ষাতেও সচেষ্ট ছিলেন তিনি। ১৯১৭ সালের ২ অক্টোবর কবি অক্ষয়চন্দ্র সরকার মৃত্যুবরণ করেন।

লেখকঃ সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ,সভাপতি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতি,
চেয়ারম্যান গ্রিন ক্লাব,শিক্ষক,গবেষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট